ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ আইনমন্ত্রীর

৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণের মামলা না নেয়ার পর্যবেক্ষণ যে বিচারক দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে এক সভায় তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেয়া হবে। যাতে ঐ বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।

আজ শনিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘একটি কথা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমি উনার (বিচারক) রায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না। কিন্তু উনার (বিচারক) অবজারভেশনে ৭২ ঘণ্টা পরে পুলিশ যেন কোনো ধর্ষণ মামলার এজাহার না নেয়, এই যে বক্তব্য উনি দিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণে আমি আগামীকাল (রোববার) প্রধান বিচারপতির কাছে তাঁকে বিচারক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে জন্য একটা চিঠি লিখছি। কাল (রোববার) চিঠি দেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেনের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে খালাস দেন বিচারক। পাশাপাশি, পর্যবেক্ষণে জানান, ধর্ষণের ঘটনার ৩৮ দিন পর কেন মামলা করা হয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

ভবিষ্যতে সঠিক তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ যেন মামলা গ্রহণ না করেন, সে বিষয়েও রায়ে বলা হয়।

আরও পড়ুন